Banglartigertv মনে করেন সরকার ‌‌‌ঘোষণা

মনে করুন,

 সরকার ঘোষণা করল এসএসসি ,এইচএসসি বা বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা সকাল ৬টায় হবে । ঠিক ৬টায় । বাংলাদেশের কয়জন ছাত্র ছাত্রী এজন্য পরীক্ষা মিস করবে?
.
দেখা যাবে পরীক্ষার দিন সবাই দলে দলে পরীক্ষা দিতে আসছে (যাদের আসার কথা)। কেউ বাদ পড়ে নি।
.
সরকারকে কি এজন্য এলাকায় এলাকায় মাইক দিয়ে সকাল বেলা ছাত্র ছাত্রীদেরকে ঘুম থেকে উঠাতে হবে ??

না। দেখা যাবে বেশিরভাগ স্টুডেন্ট রাত ২/৩টায় উঠে বসে থাকবে, প্রস্তুতি নিবে।,পারলে সারারাত ঘুমাবে না ভাল প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু পরীক্ষা মিস করবে না ।
.
কারন কী ? কারন সবাই নিজের ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যতের ব্যাপারে সচেতন। কেউ পরীক্ষা মিস দিয়ে তাদের ক্যারিয়ার বা ভবিষ্যত নষ্ট করতে চায় না। তা যতই কষ্ট হোক।
.
অভিভাবকরাও এই ব্যাপারে সাবধান থাকবে যাতে কোনোক্রমে পরীক্ষা মিস না হয় ।
.
এখন আসুন আরেকটা ব্যাপারে । এই বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা , পালনকর্তা, বাদশাহ মহান আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়তে । শুধু নির্দেশই দেন নি প্রতিদিন ভোর বেলা মুয়াজ্জিনের মাধ্যমে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এই বলে ,
_
'হাইয়া আলাস সলাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ' অর্থাৎ 'সলাতের দিকে এসো, কল্যাণের দিকে এসো'
''আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম '' অর্থাৎ ''ঘুম থেকে নামাজ উত্তম ''
...
তবুও আমরা কয়জন যাই নামাজ পড়তে ? কয়জন উঠি ঘুম থেকে নামায পড়ব বলে? আজকের এই যুগে দেশের ১০% মুসলিমও ফজরে উঠি কিনা গবেষণার ব্যাপার।
..
এর কারন কী ? কারন হল আমাদের কাছে দুনিয়াটা বড় । দুনিয়ার ক্যারিয়ার, ভবিষ্যত আমাদের কাছে অনেক বড়। আখিরাত ছোট । আমাদের কাছে দুনিয়াটা মুখ্য , আখিরাত গৌণ। এই প্র্যাকটিস শুরু হয় সেই ৫/৬ বছর বয়স থেকে। যখন আমাদের বলা হয়, 'তাড়াতাড়ি ঘুমাও, স্কুল আছে সকালে।' কিন্তু ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কয়জন বাবা মা বলে 'নামায পড়তে হবে, তাড়াতাড়ি ঘুমাও?'
...
মানে, আমাদের ক্যারিয়ার মুখ্য কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ গৌণ । নাউযুবিল্লাহ!
...
আমরা কেউ আখিরাত নিয়ে চিন্তা করে সময় নষ্ট করতে চাই না । আখিরাতে আমাদের কী হবে এই ব্যাপারে আমরা কিছু ভাবতে চাই না অথচ দুনিয়ার জীবন আখিরাতের জীবনের কাছে শুধুমাত্র একটা সকাল বা বিকালের সমান !! আমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশের কোন মূল্যই নেই।
.
আর অভিভাবকরাও সন্তানের দুনিয়ার ব্যাপারে সচেতন কিন্তু আখিরাতের ব্যাপারে উদাসীন ।
Photo
Photo

Comments