হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল মনে হল কেও যেন আমার মুখে পানি দিতেছে,চোখ খুলে দেখি অনন্যা গোছল করে এসে আমার মুখের উপর চুলের পানি দিতেছে। আমি চোখ খুলছি দেখে বলল
হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল মনে হল কেও
চাচাতো বোন যখন বউ season 2
লেখক ::Akhi Akhter
( part...6)
।
হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল মনে হল কেও যেন আমার মুখে পানি দিতেছে,চোখ খুলে দেখি অনন্যা গোছল করে এসে আমার মুখের উপর চুলের পানি দিতেছে। আমি চোখ খুলছি দেখে বলল
-এত সময়ে ঘুম ভাঙল
:এই মাত্র ঘুমাইলাম আর তুই ঘুম নষ্ট করে দিলি
-কয়টা বাজে খেয়াল আছে(চিৎকার করে বলল)
:কয়টা হবে ৭-৮টা
-এখন রাত ১১টা বুঝলি
:কি এত ঘুমিয়েছি
-জি এখন গোছল করে আসেন তাড়াতাড়ি খাবার খাব
:হুম এখনি আসতেছি
তাড়াতাড়ি উঠে গোছল করতে গেলাম, গোছল শেষ করে আসলাম অনন্যা খাবার টেবিলে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি গিয়ে ওর পাশে বসলাম
-এত সময় লাগে গোছল করতে
:এত সময় কোথায় এই গেলাম আর আসলাম
-আচ্ছা চুপচাপ খেয়ে নাও
অনন্যা আমার প্লেটে খাবার দিল আমি খাওয়া শুরু করলাম, কিন্তু ও খাচ্ছে না ব্যাপার কি কিছুই বুঝলাম না। ওর দিয়ে চেয়ে দেখি রাগে ফুলতেছে, রাগ করল কিসের জন্য কিছুই বুঝলাম না।
:কি রে খাবি না
-না
:কেন
-ইচ্ছা নাই
:ইচ্ছা না হলে আর কি করবি বসে থাক
আমি আবার খেতে লাগলাম মাঝে মাঝে আর দিকে তাকাচ্ছি।
:নে হা কর
-আমি খাব না
:রাগ করিস কেন খেয়ে নে
-আমি খব না
:না খেয়ে যাবি কোথায় (বলে জুড় করে ওর মুখে তুলে দিলাম)
-তুই এত সময় দিলিনা কেন
:দেখলাম তুই কি করিস
-আজ থেকে প্রতিদিন মুখে তুলে খাওয়াবি না হলে আমি খাব না
:আচ্ছা এখন খেয়ে নে
-তুইও হা কর
:আমাকে আর খাইয়ে দিতে হবে না, আমি তর মত বেবি না
-আমি বেবি
:তা নয়ত কি
-আচ্ছা আমি বেবি, এখন থেকে সব কাজ তুই করবি
:কেন
-আমি বেবি তাই
:আরে না তুই অনেক বড় একটা মেয়ে
-উহু কাজ হবে না সব কাজ তুই একা করবি, রান্না করা , কাপড় ধুয়া, ঘর গোছানো, বাজার করা, সব কিছু তুই করবি
:আমি এসব পারি নাত
-তুই বড় হয়ে পারিস না আর আমি বেবি হয়ে কি করে পারব বল
:তুই বেবি কে করছে, আমি বলছি আমাদের....
-চুপ আর একটা ও কথা বলবি না, আমার খাওয়া শেষ তুই সব পরিষ্কার করে গোছিয়ে রেখে আয়
:তুই নিজের স্বামী কে দিয়ে কাজ করাবি
-আমি বেবি তাই আমার ধারা কোনো কাজ করা সম্ভব না
এই বলেই চলে গেল রুমে, কি ভুলটা করলাম। কেন যে বেবি বললাম ধুর, এখন সব কাজ আমাকে একা করতে হবে। হাড়ি পাতিল সব কিছু পরিষ্কার করে গোছিয়ে রুমে এসে দেখি রাত একটা হয়ে গেছে, হায় আল্লাহ আমি এ কি ভুল করলাম। রান্না ঘরের কাজ এত কষ্টের আগে যানা ছিল না, এখন অনন্যা কে কোনো রখম বুঝাতে হবে। না হলে কালকের পর আর আমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, অনন্যা শুয়ে আছে ওর পাশে শুয়ে পরলাম। জরিয়ে ধরলাম কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পেলাম না
:অনন্যা এই অনন্যা ঘুমিয়ে গেছিস
-ওই ঘুমাতে দিবি না আমাকে
:আচ্ছা তুই কি রোমান্টিক গল্প পড়িস না
-কেন, মাঝেমাঝে পড়ি
:তাহলে ওই খানে দেখিসনি বফ গফ কে আদর করে বেবি বলে
-ত কি হইছে
:আমিও তকে আদর করে বলছি
-চুপচাপ ঘুমা
বুঝলাম কাজ হয় নি এখন নিজের দুষে মরতে হবে, কি আর করা অনন্যাকে জরিয়ে ধরে ঘুমিয়ে পরলাম। কাল সকালে কপালে কি আছে আমি জানি না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সব কিছু স্বাভাবিক, ব্যাপার কি হল অনন্যা আমাকে ডাক দিল না কেন। তাহলে কি ওর রাগ কমে গেছে, এর এই কথায় রাগ করার কিছুই নাই আমাকে দিয়ে কাজ করানোর ধান্ধা। যাই দেখি ও কি করে, উঠে ফ্রেশ হয়ে কিচেনে গেলাম। দেখি অনন্যা রান্না করতেছে চুপচাপ গেলাম ওর পিছনে গিয়ে জরিয়ে ধরলাম।
-কেএএএএএ-কেএএএএএএএএএ
:আমি আমি (ওর মুখ চেপে ধরলাম)
-তুই হঠাৎ এভাবে আসলে কেন
:এমনি, দেখলাম তুই খুব সুন্দর করে রান্না করছিস তাই
-তাই আমাকে এভাবে ভয় দেখাবি
:আমি ভয় দেখাতে আসি নি, একটু আদর করতে আসছি
-তর আদর বাহির করছি (বলেই কিল ঘোষি দিতে শুরু করল)
:কি মুস্কিল, আদর করতে আসলেও বিপদ না করলেও বিপদ
-আদর করবি তাহলে ফ্রি সময় করিস না কেন, কাজের সময় এসে শুরু করিস ঢং
:আমি ঢং করি
-না তুমি নাটক কর
:আচ্ছা আর করব না
-ধেৎ আমি কি না করছি
:তাহলে কি
-এখন আমাকে জরিয়ে ধর আমি রান্না করব আর তুই দেখে শিখবি
:আচ্ছা তুই এত ভাল রান্না কোথায় শিখলি
-নানুর কাছ থেকে
:নানুকে ধন্যবাদ দিতে হবে, আমার বউ কে এত ভাল রান্না করা শিখানোর জন্য
-হুম তর মোবাইল দে
:কেন
-নানুর সাথে কথা বলব
:কিন্তু
-নানু আমাকে খুব ভালবাসে ভাইয়া যে সময় আমাকে আসতে গেছে তখন নানু আমাকে আসতে সাহায্য করছে
:আচ্ছা এখন রান্না কর পরে কথা বলবে
-তাহলে জরিয়ে ধরিস না কেন
:ওরে আমার রোমান্টিক বউ আমি ভুলে গেছিলাম
-এখনো বিয়ে করিস নি আমাকে, তাই বউ বলবি না
:আচ্ছা তাহলে চল আজ বিয়ে করে আসি
-সত্যি আজ বিয়ে
:হুম আজ বিয়ে করে ফেলব
-আচ্ছা তাহলে এখন রান্না শেষ করে ফেলি
:হুম তুই রান্না কর আমি আর আমি দেখি তকে
-ভাল করে দেখ
:দশ বছর পরে আসলি আমার কাছে
-এখন একিবারে চলে আসছি
:সাবধানে কাজ করিস
-হুম করতেছি
রান্না শেষ করে অনন্যা গেল ফ্রেশ আর আমি ভাইয়া কে কল দিলাম
:হ্যালো ভাইয়া কেমন আছ
:-ভাল তুই কেমন আছিস
:ভাল আছি, ভাইয়া আমরা বিয়ে করে ফেলি
:-তদের ইচ্ছা
:ভাবছি করে ফেলব, তুমি ওই লোক কি যেন ওনার নাম
:-নুরুল এর কথা বলছিস
:হুম, নুরুলকে বল আমাদের ব্যবস্থা করে দিতে
:-আচ্ছা বলব
:ভাইয়া তুমি যদি আসতে ভাল হত
:-আমার কিছু কাজ ছিল, কিন্তু আজ কাল পারব না আসতে
:কোন দিন আসতে পারবে
:-পরশুদিন রওনা দিতে পারব
:তাহলে তুমি চলে আস, তারপর বিয়ে করব
:-আচ্ছা ঠিক আছে, এখন রাখি কাজে আছি
:আম্মু কেমন আছে
:-ভাল আছে, রাখলাম
:আচ্ছা ভাল থেক
ভাইয়ার সাথে কথা বলা শেষ করে কিচেনে গেলাম, খাবার গুলা টেবিলে এনে রাখলাম। অনন্যা মেয়ে বলে কি ও সব কাজ একা করবে আমিও ওর সাথে কিছু কাজ করলে ওর কষ্ট কম হবে। খাবার টেবিলে রেখে বসে আছি অনন্যার জন্য, ও ফ্রেশ হলে এক সাথে খাব। অনন্যা ফ্রেশ হয়ে এসে টেবিলে খাবার দেখে কিছুটা অভাক হয়ে বলল
-এসব তুমি করছ
:না ভুত এসে করে দিয়ে গেছে
-ভুত টা কি মনে করে এইসব করল
:ভুত মনে করছে পেত্নী একা সব কাজ করে আর ও কিছুই করে না তাই এইটা করল
-ভুত কে বল ওর কোনো কাজ করতে হবে না শুধু আমার পাশে থাকলে হবে
:পেত্নী একা ওত কষ্ট করবে না ভুত মেনে নিতে পারে না তাই
-হইছে আর ঢং করতে হবে না আমাকে খাইয়ে দাও
:হা কর
-আমরা কবে যাব বিয়ে করতে
:আজ হবে না
-কেন
:ভাইয়া পরশুদিন আসবে
-ভাইয়া আসার পরে বিয়ে করব
:হুম, একা একা খেয়ে যাচ্ছিস আমার কি খিদে লাগে না
-তুই কাল না করলি তাই আর দিতে ইচ্ছা হল না
:এখন দে
তারপর দুজনে খেয়ে সব কিছু গুছিয়ে টিভি দেখতে লাগলাম
-এই তর ফোন দে নানুকে কল দিব
:হুম ধর
অনন্যা নানুর নাম্বারে কল দিল
-হ্যালো নানু আমি অনন্যা বলছি (লাউড স্পিকারে দেওয়া ছিল)
:-আমিত মনে করছিলাম জোয়ান ছেলে পেয়ে এই বুড়িকে ভুলে গেছিস (অভিমানী শুরে)
-আমি কি তোমাকে ভুলতে পারব, নানু বল তুমি
:-আচ্ছা কেমন আছিস
-ভাল আছি তুমি কেমন আছ
:-ভাল আছি, তুই এখন কোথায় আছিস
-চিটাগাং চলে আসছি নানু
:-আচ্ছা দেখেশুনে চলিস, আর তর বর কেমন আছে
-ভাল আছে নানু কথা বলবে
:-দে কথা বলে দেখি
:আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন নানু
:-ভাল আছি, তুমি কেমন আছ তা জিজ্ঞাসা করব না, আমার নাতনীকে পেয়ে খুব ভাল আছ তা জানি
:আপনার দোয়ায়
:-আমার নাতনিকে দেখে রেখ আর সাবধানে থেক ও কিন্তু খুব ডেঞ্জারাস
:অলরেডি বুঝে গেছি নানু
:-আচ্ছা ভাল থাক অনন্যার কাছে দাও।
আমি অনন্যার কাছে ফোন দিয়ে রুমে চলে আসলাম ও কথা বলছে, কিছু সময় পরে কথা বলা শেষ করে রুমে এসে আমার উপর শুয়ে পরল।
:কি হইছে রে
-কিছু না
:মন খারাপ
-না
:তাহলে এমন চুপচাপ হয়ে গেলি কেন
-এমনি
:কি হইছে বল
-নানু বলছে বিয়ে না করে এক সাথে থাকা ঠিক না
:তাই মন খারাপ
-হুম, আমি তকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারি না আর ওই বুড়ি কি বলে
:এতে মন খারাপ করিস কেন আমরাত অন্য কিছু করছি না
-মানে কি বুঝলাম না
:বেশি বুঝতে হবে না সোনা
-আমি কি দেখতে সোনার মত
:কেন
-তুই আমাকে সোনা বললি কেন
:কারণ তুই আমার কাছে সোনা রোপা হিরা মুক্তা মনি সব
-সব কেন
:ভালবাসি বলে
-একটু ও বাসিস না
:কে তাহলে কি
-যদি ভালবাসিস তাহলে আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাস না কেন
:তাইত আমরা একদিন ও ঘুরতে যাই নি
-চল আজ ঘুরে আসি
:হুম তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে
আমি আমার কাপড় নিয়ে অন্য রুমে চলে আসলাম, আপনাদের বলা হয় নি এই বাসায় দুইটা রুম একটা ড্রইংরুম একটা কিচেন আর একটা বাথরুম আছে। ছোট ফ্যামিলির জন্য পারফেক্ট বাসা, আমি কাপড় চেঞ্জ করে বসে আছি অনন্যার জন্য। মেয়ে মানুষের এই একটা সমস্যা কোথাও যেতে হলে সাজগুজ শেষ হয়না এদের, এত সাজে বলে বুঝাতে পারব না। অনেক সময় পরে দরজা খুলল
:কিরে শেষ হইছে
পরবর্তী পার্ট এর জন্য এডড দিতে পারেন
বলে রুমে গিয়ে অনন্যার দিকে চেয়ে আমি ফিদা হয়ে গেলাম, এটা অনন্যা না অন্য কেও বুঝতে পারছি না। এত কিউট লাগতেছে বলে বুঝাতে পারব না একদম পরীর মত লাগতেছে।
-ওই হা করে আছিস কেন
:পরী দেখি
-আজ নতুন দেখছিস না কি
:না কিন্তু তকে যতবার দেখি মনে হয় নতুন দেখছি
-হইছে এখন চল
:নেকাপ পরবি না
-নেকাপ পরব কেন
:না পরলে আমার বউকে সবাই হা করে দেখবে, এটা যে আমার ভাল লাগবে না
-আচ্ছা পরছি
অনন্যা নেকাপ পরল, তারপর দুজন এক সাথে বাহির হলাম। বাহির হয়ে...........
।
।
।
।
চলবে......
।
।
(কেমন হল জানাবেন, ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে
![]() |
| Bangla Photo |

Comments
Post a Comment