কুরআনে নাকি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে..

কুরআনে নাকি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে.

......
অমুসলিমদের অভিযোগ।√
^
★যারা বলে থাকেন, পবিত্র কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে......তারা আমাকে বলবেন কোন সুরার কত নাম্বার আয়াতে কথাগুলো বলা হয়েছে।
অথচ উল্টাটা বলছে পৃথিবী যে গোলাকার এই বিষয়ে পবিত্র কুরআন বলছে। যেমন; সুরা রাহমান, আযাত ১৭, আল্লাহ বলেছেন, 'তিনিই আল্লাহ, যিনি দুই উদয়াচল এবং দুই অস্তাচলের মালিক।" আমরা জানি, পৃথিবীতে দুইবার সূর্য উদয় হচ্ছে এবং দুইবার অস্ত যাচ্ছে ২৪ঘন্টায়। যেমন: আমাদের দেশে সূর্য উঠছে এবং আমারেকিটাতে উঠছে। ওদের উল্টাটা আমাদের হচ্ছে। এটি কখন সম্ভব যখন পৃথিবী গোলাকার হবে৷ যখন আলোটা পৃথিবীর একপাশে কাভার করতে পারবে। আল্লাহ যদি নাই জানতেন তাহলে তিনি কেন বললেন, দুই উদয়াচল এবং দুই অস্তাচলের মালিক। এখানে দুই কথাটি বলা হয়েছে।
★সুরা ইবরাহিম, আয়াত ৪৮, আল্লাহ বলেন, 'সেইদিন পৃথিবীকে পরিবর্তন করা হবে অন্য এক পৃথিবীতে।" কেমন পৃথিবীতে? এর উত্তর রয়েছে সুরা ইনশিরাক, আয়াত ৩, তিনি বলেন,' সেদিন পৃথিবীকে সমতল করা হবে।' এই আয়াতে ব্যাখ্যায মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, সেইদিন পৃথিবীকে এমনভাবে সমতল করা হবে, যেমন উটের চামড়া টান টান করে ধরলে যেমনভাবে ছড়িয়ে যায়। তাহলে বুঝা গেল, পৃথিবী গোলাকার এবং ইবরাহিম ৪৮নাম্বার আয়াত অনুযায়ী সেইদিন পৃথিবীকে সমতল করা হবে।
★তারা অভিযোগ করে সুরা ত্বহা, আয়াত ৫৩, তিনি বলেছেন,' আমি তোমাদের জন্য জমিনকে করেছি বিছানাস্বরূপ এবং এতে করেছি তোমাদের জন্য চলার পথ।' এই আয়াতের ব্যাখ্যায তারা বলে, জমিনকে বিছানার মতো করা হয়েছে। তাহলে আমরা বিছানাতে ঘুমাই, তাহলে তেমন সোজা করা হয়েছে। তাহলে পৃথিবী সমতল এমনটিই বোঝানো হয়েছে। →আমরা এ জমিন সম্পর্কে আসলে কতটুকু জানি! আমরা যে ভূত্বকে বসবাস করছি এই লেয়ারটির নাম হচ্ছে ক্রাস্ট লেয়ার। এই ক্রাস্টলেয়ার ৩০ কিঃমিঃ পর্যন্ত বিস্তৃত। আপনি যদি এর নিচে চলে যান তাহলে পাবেন মেন্টো লেযার বা মেন্টাল লেয়ার। এর তাপমাত্রা ৯০০ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে আপনি আমি গেলে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাবো। এই লেয়ারটি ২৯০০কিঃমিঃ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপরে রয়েছে আউটার কোর্ড। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৭০০ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরে ইনারকোর্ড। আমরা যে আগ্নেযগিরি বা লাভা দেখি এগুলো এই লেয়ারের সামান্য বিস্ফোরণ মাত্র। তাহলে যদি আল্লাহ এই লেয়ারগুলোর কথা চিন্তা করে বলেন, তোমাদের জন্য জমিনকে করেছি বিছানাস্বরূপ। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? এখানে আসলে রূপক অর্থে বিছানা শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা যদি এই লেয়ারগুলার কথা চিন্তা করি তাহলে দেখবো, আমরা কত ভাল অবস্থানে আছি।  আর এটি আল্লাহ পরবর্তী আয়াতেই বলেছেন অর্থাৎ সুরা ত্বহা, আয়াত ৫৪, তিনি বলেন,'এতে করেছেন তোমাদের জন্য চলার পথ' অর্থাৎ  জমিনকে করেছেন বিছানার মতো এবং চলাচলের উপযুক্ত।
★ সুরা নাজিয়াতের ৩০নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'তিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিস্তৃত করেছেন।' এই আয়াতে পরিপেক্ষিতে অনেকের অভিযোগ, আল্লাহ তায়ালা সমতলভাবে বিস্তৃত করেছেন। না, ভাই৷ এখানে বিস্তৃত কথাটি বলার জন্য যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো 'দাহাহা'।  এর মুল শব্দ 'দাহউন'। যার অর্থ গোলাকার কোন বস্তু। 'দাহউন' শব্দটির মুল শব্দ 'ইদহা'। যার অর্থ উট পাখির ডিম। আমরা জানি এই পৃথিবীর আকৃতি উট পাখির ডিমের মতোই। আল্লাহ যদি পৃথিবীকে সমতল বলতো তাহলে এই শব্দগুলো ব্যবহার করতো 'সাবিঈ, আল মুসতাকি'। আর্লাহ তায়ালা তো এমন কোন শব্দ ব্যবহার করেন নাই৷
★ সুরা যুমার, আযাত ৫, আল্লাহ তায়ালা রাত্রিকে দিন দ্বারা এবঙ দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন'। এখানে আচ্ছাদিত বলতে গিয়ে যে আরবি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো 'ইহয়াকবিরু'। এর অর্থ কোন কিছু প্যাচানো। যেমন পাগড়ি প্যাচানোর মতোই। √
★ আল্লাহ তায়ালা অমুসলিম ভাইদের বুঝার তওফিক দান করুক এবং মুসলমানদের ইমানকে মজবুত করে দিক। আমিন।
বাংলা ইসলামী ফটো
বাংলা ইসলাম ফটো

Comments