রুবসে ফোন টিপছি।এমন সময় আমার স্ত্রী রিয়া তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকে বললো,

রুবসে ফোন টিপছি।এমন সময় আমার স্ত্রী



রুবসে ফোন টিপছি।এমন সময় আমার স্ত্রী রিয়া তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকে বললো,,,,

---পাশের ফ্ল্যাটে নতুন ভাবীকে দেখে আসলাম।অনেক কিউট জানো।আর অনেক সুন্দর, সুন্দর শাড়ি পড়ে,,,,,,

আমি রিয়ার কথা শুনে আনন্দিত হয়ে হাসতে হাসতে বললাম,,,,

----একদম ঠিক বলছো, ভাবী সত্যি অনেক সুন্দরী।দেখতে একদম বাচ্চা বাচ্চা লাগে।তা ছাড়া গলার নিচে একটা কালো তিল‌ও আছে।সেদিন বিকালে দেখলাম খোলা চুল নীল শাড়ি পড়ে ছাদে হাটাহাটি করছে।উফফ কি যে সুন্দর লাগছিলো,,,,,,

রিয়া দিকে তাকিয়ে দেখলাম,,, রিয়া চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে র‌ইলো।

আমি যে কত বড় ভুল করে ফেলেছি সেটা আমি ঠিক ভালো করেই বুঝতে পারছি।

রাগে রিয়ার সারা মুখ লাল হয়ে গেছে।আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে বসে র‌ইলাম।রিয়া রুম থেকে বের হয়ে গেলো।

একটু পর রান্না ঘর থেকে বটি দা টা এনে বললো,,,,,,,,,,

---দেখো তো এটার ধার ঠিক আছে কি না?

আমি হাতে নিয়ে পরিক্ষা করে বললাম,,

---একদম ঠিক আছে।আজকেই ধার করালে না কি?

রিয়া দা টা হাতে নিয়ে বললো,,,,

----হ‍্যা আজকেই করিয়েছি।আচ্ছা এটা দিয়ে এক কোপ দিলে কি ঘাড় থেকে মাথাটা ভাগ হয়ে যাবে না?

আমি বসা থেকে দাড়িয়ে বললাম

---এইসব কি ভয়ংকর কথা বলছো?

রিয়া আমার শার্টের কলার ধরে বললো,,,

----পাশের বাসার ভাবীর গলার নিচে তিল আছে সেটা তোর চোখে পড়ে আর আমার যে ঠোঁটের নিচে তিল আছে সেটা তো তোর কখনো চোখে পড়েনি।

ভাবী নীল শাড়ি পড়েছিলো সেটা তোর মনে আছে আর আমি যে এই মুহূর্তে নীল শাড়ি পড়ে রয়েছি সেটা তোর চোখে পড়ে না?

ভাবীর চেহারা বাচ্চা আর আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি?

আমি মাথাটা নিচু করে বললাম,,,,

---সরি বাবু,,,,,,

রিয়া রাগে হাপাতে হাপাতে বললো,,,

---তোর সরিকে তোর টুট টুট টুট।

(বাকি টা নিজ দায়িত্ব বুঝে নিবেন)

রিয়া বললো,,

---তুই এই মুহূর্তে বাসা থেকে বের হয়ে যা তা না হলে আমি কিন্তু আজ বিধবা হয়ে যাবো,,,,,,,

ক্লাসমেটকে বিয়ে করলে এই এক ঝামেলা কথায় কথায় তুই তোকারি করে গালাগালাজ করে আর যখন তখন মাঝ রাতে বাসা থেকে বের করে দেয়।

রাত কয়টা বাজে জানি না কারণ আমার হাতে ঘড়ি নেই সাথে মোবাইল ও নেই।পকেটে হাত দিয়ে দেখি সিগারেটের প‍্যাকেট আর লাইটার আছে।

জ্বলন্ত সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করছি।এমন সময় কেউ একজন পিছন থেকে বলে উঠলো,,,,,

----দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা ঠিক না।

আমি প‍্যান্টের চেইন লাগাতে লাগাতে বললাম,

----প‍্যান্টটা অনেক টাইট তো তাই বসে সঠিক ভাবে প্রস্রাব করা যায় না,,

লোক টা কিছু না বলে আমার ঠোট থেকে সিগারেট টা নিয়ে দুটো টান দিয়ে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো,,,,,

----আমি আবিদ, তা ভাই কি বিবাহিত?

আমি কিছু টা অবাক হয়ে বললাম

--- তা আমি যে বিবাহিত সেটা আপনি বুঝলেন কি ভাবে?

লোক টা মুচকি হেসে বললো,,,,

----এত রাতে ব‌উয়ের দৌড়ানি খেয়ে বিবাহিত পুরুষ বাদে অন‍্য কেউ বাসা থেকে বের হবে না।তা ভাই ব‌উ বাসা থেকে বের করে দিলো কেনো?

আমি মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললাম,

----ভাইরে পরের স্ত্রীর সৌন্দর্যর প্রশংসা করেছিলাম তাই।

আমার কথা শুনে লোক টা বললো,,,

----আপনার টা না হয় মেনে নেওয়া যায় কারণ স্ত্রী স্বামীর মুখ থেকে অন‍্য নারীর সৌন্দর্যের কথা সহ‍্য করতে পারে না কিন্তু আমাকে তো ছোট একটা কারণে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে।

আমি বললাম

----কারণ টা কি?

লোক টা এক টান দিয়ে সিগারেট টা শেষ করে বললো

---আমার ব‌উ মিম শপিংমল থেকে একটা পারফিউম কিনে এনেছে।আমাকে পারফিউম টা দেখিয়ে বললো, দেখো তো ঘ্রান টা কেমন?

আমি ঘ্রাণ শুকে বললাম, ঘ্রাণ টা ভালো আছে কিন্তু আমার কলিগ ফারিয়ার ওর পারফিউমের ঘ্রাণ টা আরও সুন্দর।

এই কথা শুনে আমার ব‌উ প্রথমে পারফিউমের বোতল টা ভাঙলো তার পর আমাকে বাসা থেকে বের করে দিলো।

কাল নাকি আমায় ডিভোর্স দিবে কারণ আমার নাকি চরিত্র ভালো না আমি না কি কলিগের শরীরের ঘ্রাণ শুকে বেড়াই,,,,

 এমন সময় খেয়াল করলাম হাফ প্যান্ট পড়া খালি গায়ের একটা লোক এদিক ওদিক উকি ঝুঁকি মারছে আমাদের দেখতে পেয়ে দৌড়ে আমাদের কাছে এসে বললো,,,,

---ভাই আপনারা কেউ কি সেন্টু গেঞ্জি পড়েছেন?

আমি বললাম,,,

-- হ‍্যা আমি পড়েছি কিন্তু কেনো?

----তাহলে ভাই, আপনার শার্টটা আমায় দেন।কোন রকম আমার লজ্জা টা নিবারণ করি।তার পর সব বলছি।

আমি শার্টটা খুলে দিতেই উনি কোমড়ে পেছিয়ে পড়লেন।তার পর আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন,

---আমি সাগর, তা ভাই আপনারা কি বিবাহিত?

আমি আর আবিদ ভাই মুচকি হেসে বললাম

---জ্বি ভাই।তা আপনার বাসা থেকে বের করে দিবার কারণ?

সাগর ভাই একটা একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললো,,,,

---আমার বিয়ে হয়েছে দুই বছর হলো।কিন্তু এখনো সন্তানের বাবা হতে পারলাম না।সন্তান হবে কি ভাবে, সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চার দিনেই ব‌উ আমায় বাসা থেকে বের করে দেয়,

দুই দিন ব‌উয়ের মাথা ব‍্যথা থাকে আর এক দিন শ্বাশুড়ি বাসায় আসে আর ব‌উ শ্বাশুড়ীর সাথে ঘুমায়।

আজ মা আমার ব‌উ কে বললো এক বছরের ভিতর যদি নাতি নাতনির মুখ দেখাতে পারে তাহলে মা তার সমস্ত গহনা আমার ব‌উ কে দিয়ে দিবে।

ব‌উ নিজের ইচ্ছেতেই আমাকে কাছে ডাকলো, অন্তিম মুহূর্তে আবেগে ব‌উ কে বলে ফেললাম, আই লাভ ইউ রিয়া, আই লাভ ইউ সো মাচ।

কিন্তু আমার ব‌উয়ের নাম ছিলো নদী।ব‌উ প্রথমে আমাকে ধাক্কা দিয়ে খাট থেকে ফেলে দিলো।আর এই কথা শুনে ব‌উ সোজা বাসা থেকে বের করে দিলো।

প‍্যান্ট পড়ার সময় টা পর্যন্ত দেয়নি,

রাতের অন্ধকার কেটে আস্তে আস্তে আলো ফুটতে লাগলো।এখন বিদায়ের পালা।হঠাৎ আবিদ ভাই আমাদের দুই জনকে বললো,,,

----ভাই স্ত্রী লোক সৃষ্টি হয়েছে স্বামীর পাজরের বাকা হাড় দিয়ে।এমন আমরা যদি একদিনেই বাকা হাড় সোজা করতে চাই তাহলে সেই হাড় ভেঙে যাবে আর যদি সোজা করার চেষ্টা না করি তাহলে সেই হাড় দিনকে দিন আরো বেকে যাবে।

তাই প্রতিদিন আদর ভালো বাসা যত্ন দিয়ে আস্তে আস্তে সেই বাকা হাড় সোজা করতে হবে।আমরা তিন জন আজকে রাস্তায় রাত কাটালাম।

বিশ্বাস করেন আমাদের স্ত্রী কিন্তু এক মিনিটের জন্য হলেও বিছানায় শরীর লাগায় নি।কেউ হয়তো সারারাত বেলকনিতে দাড়িয়ে পথ চেয়ে রয়েছিলো,

কেউ হয়তো সারারাত কেদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে আর কেউ হয়তো ফজরের নামাজ পড়েই স্বামী কে খুজতে বের হয়ে গেছে।

স্ত্রী লোক ভাই খুব আজব জিনিস।দুনিয়া উল্টে গেলেও স্বামীর ভাগ কাউকে দিবে না।

যখন চলে যাবো তখন সাগর ভাই বললো,,,,,,,,,,,,,,,,,

---ভাই আপনার শার্টটা কবে দিবো?

আমি মুচকি হেসে বললাম,,

---কোন একদিন মধ্যরাতে আপনার সাথে আবার দেখা হয়ে যাবে।যেহেতু আমরা বিবাহিত।সেদিন না হয় দিয়েন।

গেইট দিয়ে যখন বাসায় ঢুকতে যাবো তখন দেখি রিয়া বেলকনির গ্ৰীল ধরে দাড়িয়ে আছে।পরনে নীল শাড়ি আর খোলা চুল।পাশের বাসার ভাবীর থেকে কম পক্ষে হলেও দশ গুন বেশি সুন্দর অথচ এই সৌন্দর্য টা এতদিন আমার চোখেই পড়েনি,,,

ওই দিকে সাগর ভাই,,,,

সাগর কলিংবেল বাজাতেই নদী দৌড়ে এসে দরজা খুললো।সারারাত কেদে নদী চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।

সাগর কে জড়িয়ে ধরে নদী বললো, আর যদি কখনো রিয়ার নাম শুনি তাহলে কিন্তু খুন করে ফেলবো তোমায়,,,,

ওই দিকে আবিদ,,,

আবিদকে দেখেই মিম অন‍্য দিকে হাটা শুরু করলো।আবিদ মিমকে বললো,,, তুমি কি আমায় খুজতে ছিলে?মিম অন‍্য দিকে তাকিয়ে বললো,,,

তোমার মত একটা ফাজিল কে খুজতে আমার বয়েই গেছে।একটু মোটা হয়ে যাচ্ছি দেখে রাস্তায় হাটাহাটি করছি,,,,,,,,,,

(আসলে সব সময় স্ত্রী স্বামী কে খুব ভালো বাসে কিন্তু কখনো ঝগড়া করে ভালো বাসা প্রকাশ পায় কখনো ভালোবাসার মধ্যে ভালো বাসা প্রকাশ পায় কিন্তু ভালো বাসা তো ভালোবাসা সব সময় যেনো স্বামী স্ত্রীর ভালো বাসা এমন হয় সবার এই টাই দোয়া করি সব সময় আল্লাহ হাফেজ)
Bangla Photo Pori moni
Bangla Photo

Comments